মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩০ অপরাহ্ন
গাজী রুবেল, কুমিল্লা: পরিবারের আর্থিক অস্বাচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরীকে একাধিক বার ধর্ষনের অভিযোগ ওঠেছে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের পূর্বচন্ডিপুর মযজিদ সংলগ্ন শামসুল হক চেয়ারম্যান এর বাড়িতে৷ এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়,
গত ৯ এপ্রিল রবিবার বিকালে ইফতারের আগ মূহুর্তে একই বাড়ির মৃত সুন্দর আলীর ছেলে মোঃ ফরিদ উদ্দিন (৬০) নামে এক বৃদ্ধা একই এলাকার মোঃ মনিরুল হকের ১৬ বছর বয়সী বাক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী কিশোরী পারভীন আক্তারকে ধর্ষনের চেষ্টা করে ৷ এর আগে একাধিক বার প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছে এমন অভিযোগ শুনা যায় অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিনের বিরোদ্ধে৷ কিন্তু এবার হাতেনাতে ধরা পড়ায় বিষয়টি অর্থের বিনিময়ে রফাদফা করার জন্য অনেক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফরিদ উদ্দিনের পরিবার ও এলাকার গ্রাম্য সালিশিরা।
তারা একাধিক বার বৈঠকের পর ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এবং পরিবারটির আর্থিক অস্বচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে বিষয়টি শেষ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের। এঘটনার জানাযানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিনকে এলাকায় কম দেখা যাচ্ছে৷ সরেজমিনে গিয়ে প্রতিবন্ধী কিশোরীর মায়ের সাথে কথা বলতে গেলে তিনি এবিষয়ে প্রথমে বিয়ষটি অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তিনি বলতে শুরু করেন ঘটনার সময় আমি রান্না ঘরে ইফতার তৈরি করছিলাম৷ ইফতারের কিছুক্ষণ আগে ঘর থেকে আমার বোবা মেয়ের হাওমাও আওয়াজ শোনে ঘরে যেতেই দেখি ফরিদ উদ্দিন দৌড়ে বেড় হয়ে যাচ্ছে৷ যা হইছে হইছে এটা নিয়ে আমি কোন কথা বলতে পারবো না। এখন আমরা গরিব মানুষ আমার স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে আমাদের তেমন খোজ খবর নেয় না৷ সমাজের মানুষ ফরিদ উদ্দিনকে নিয়ে আমার কাছে এসে ক্ষমা করেছে।
আমরা এক সমাজের মানুষ, এলাকায় চলতে হবে ৷ এ বিষয়টি চিন্তা করে সামনের দিকে যাচ্ছি না ৷
প্রতিবন্ধী কিশোরীর বড় ভাই শামীম আলম বলেন, ফরিদ এবং তার পরিবার এলাকায় প্রভাবশালী ও আমরা গরিব হওয়ায় এলাকার সালিশিরা তাদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে৷ তারা বিষয়টি এখানেই শেষ করতে চায়৷ প্রথম মিটিংয়ে তারা আমার মার কাছে ফরিদকে মাফ চায়িয়ে শেষ করার চেস্টা করে৷ আমরা বিষয়টি না মানায় দ্বিতীয় মিটিংয়ে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে আমার প্রতিবন্ধী বোনের ইজ্জত কিনতে চায় তারা৷ আমি আমার প্রতিবন্ধী বোনের ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি ৷ ধর্ষনের অভিযোগে অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিন (৬০)কে বাড়িতে পাওয়া যায়নি এবং তার পরিবারের সদস্যরা উক্ত বিষয়ে কথা বলকে রাজি হয়নি৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফরিদের বাড়ির একাধিক লোক বলেন, বিষয়টি যে সত্য তা ফরিদ নিজেই স্বীকার করেন৷ তার বিষয়ে আরও দুইবার একই গঠনা শুনতে পাই। আমরাও চাই অভিযুক্ত ফরিদ উদ্দিন এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। ফরিদ উদ্দিন এর ভাই হুমায়ুন কবির ভূইয়া মাষ্টার বলেন, আমি বিষয়টি জানার পরে ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে দুই পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলেছি। আমার ভাই বিষয়টি স্বীকার করেছেন এবং সামাজিক ভাবে বিষয়টি শেষ করার চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছি ৷
ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আপনার মাধ্যমে প্রথম শুনলাম। তবে অভিযোগ পেলে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে৷